
হেমোরয়েড পাইলস রোগঃ কারণ, লক্ষণ, চিকিতসা ও প্রতিরোধ

Table of Contents
হেমোরয়েড পাইলস
হেমোরয়েড পাইলস হলো মলদ্বার ও তার আশপাশের অঞ্চলে ফোলা, স্ফীত এবং প্রদাহযুক্ত শিরা। এই রোগটি একদিকে যেমন অস্বস্তির কারণ, অন্যদিকে কখনো কখনো তা রক্তপাতের মতো উপসর্গও সৃষ্টি করতে পারে। যদিও এটি প্রাণঘাতী নয়, তবে হেমোরয়েড রোগীরা দৈনন্দিন জীবনে ব্যথা, বিব্রতকর অনুভূতি এবং জীবনযাত্রার মান হ্রাসের সম্মুখীন হন।
পাইলস কী?
পাইলস হল মলদ্বার বা রেকটামের নিচের অংশে অবস্থিত রক্তনালীগুলোর ফোলাভাব। এই শিরাগুলিতে অতিরিক্ত চাপ পড়লে, সেগুলো ফুলে যায় ও হেমোরয়েডের সৃষ্টি হয়। এটি অভ্যন্তরীণ (মলদ্বারের ভিতরে) বা বাহ্যিক (মলদ্বারের বাইরের ত্বকের নিচে) হতে পারে।
হেমোরয়েড বা পাইলসের প্রকারভেদ
হেমোরয়েডে সাধারণত দুই ধরনের হয়:
১. অভ্যন্তরীণ হেমোরয়েড (Internal Hemorrhoids)
এটি মলদ্বারের ভেতরের দিকে, মলদ্বার খোলার ২-৪ সেন্টিমিটার উপরে গঠিত হয়। এটি বাইরে থেকে দেখা যায় না এবং সাধারণত ব্যথাহীন হয়।
অভ্যন্তরীণ হেমোরয়েডর চারটি পর্যায়ঃ
প্রথম পর্যায়: ফুলে ওঠে, কিন্তু বাইরে আসে না।
দ্বিতীয় পর্যায়: মলত্যাগের সময় বাইরে আসে, কিন্তু নিজে নিজেই ভিতরে চলে যায়।
তৃতীয় পর্যায়: বাইরে আসে এবং আঙুল দিয়ে ভিতরে নিতে হয়।
চতুর্থ পর্যায়: বাইরে আসে এবং আর ভিতরে নেওয়া যায় না।

২. বাহ্যিক হেমোরয়েড (External Hemorrhoids)
এটি মলদ্বারের বাইরের প্রান্তে দেখা যায়। ছোট ছোট গাঁট বা ফোলাভাব তৈরি হয়। সাধারণত এতে চুলকানি, ব্যথা এবং অস্বস্তি থাকে। রক্ত জমে গেলে এটি থ্রম্বোসড পাইলস-এ রূপ নিতে পারে, যা খুবই বেদনাদায়ক।

হেমোরয়েডের কারণসমূহ
হেমোরয়েডের পেছনে বেশ কিছু সাধারণ কারণ রয়েছে, যেমন:
১. দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য
২. ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা
৩. টয়লেটে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা
৪. অতিরিক্ত দাঁড়িয়ে থাকা বা বসে থাকা
৫. বয়সজনিত ত্বক পাতলা হওয়া
৬. পারিবারিক বা জেনেটিক ইতিহাস
৭. আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া
৮. অতিরিক্ত ভারী জিনিস তোলা
৯. স্থূলতা (ওজন বেশি থাকা)
১০. অসক্রিয় জীবনযাপন
১১. গর্ভাবস্থা (পেটের চাপ বৃদ্ধির কারণে)
১২. পায়ুপথে যৌনক্রিয়া
১৩. যকৃতের রোগ, যেমন লিভার সিরোসিসঃ যকৃতের দীর্ঘস্থায়ী রোগ, বিশেষ করে লিভার সিরোসিস, পোর্টাল ভেনাস সিস্টেমে উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি করতে পারে (যাকে বলে পোর্টাল হাইপারটেনশন)। যেহেতু এই শিরাব্যবস্থায় স্বাভাবিক ভাল্ব থাকে না, তাই রক্তচাপ সহজেই পায়ুর শিরায় সঞ্চারিত হয়। এর ফলে শিরাগুলো ফুলে যায় এবং হেমোরয়েড বা পাইলস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
হেমোরয়েডের লক্ষণ
হেমোরয়েড, যা আমরা সাধারণভাবে পাইলস নামে চিনি, একটি সাধারণ রোগ হলেও এর উপসর্গ বেশ অস্বস্তিকর এবং অনেক সময় বিব্রতকর। রোগটি মূলত মলদ্বারের ভেতরের বা বাইরের অংশের শিরা স্ফীত হয়ে গেলে সৃষ্টি হয়। নিচে আমরা আলোচনা করবো পাইলসের লক্ষণ এবং কারা এই রোগে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
হেমোরয়েড দুই ধরনের হওয়ায় (অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক), লক্ষণও আলাদা হয়।
সাধারণ লক্ষণ:
১. পায়ুপথে ব্যথা ও চুলকানি
২. মলত্যাগের সময় বা পরে টাটকা রক্তপাত
৩. টয়লেট পেপারে লাল রক্ত দেখা
৪. মলদ্বারের চারপাশে ফোলা বা গাঁট দেখা
৫. বসার সময় অস্বস্তি বা ব্যথা
অভ্যন্তরীণ পাইলসের লক্ষণ:
১. মলত্যাগের সময় ব্যথাহীন রক্তপাত
২. অতিরিক্ত চাপ দিলে জ্বালা বা অস্বস্তি
৩. প্রল্যাপস (ফুলে বের হয়ে আসা) হলে ব্যথা হতে পারে
অভ্যন্তরীণ পাইলস অনেক সময় বোঝা যায় না কারণ এটি ব্যথাহীন এবং ভিতরে থাকে। তবে রক্তপাত হলে প্রথমে সন্দেহ সৃষ্টি হয়।
বাহ্যিক হেমোরয়েডের লক্ষণ:
১. মলদ্বারের চারপাশে চুলকানি ও জ্বালা
২. স্পর্শ করলে ব্যথাদায়ক গাঁট অনুভব
৩. বসার সময় তীব্র অস্বস্তি
৪. মাঝে মাঝে রক্তপাত বা থ্রম্বোসিস (রক্ত জমাট)
৫. বাহ্যিক পাইলস অনেক বেশি যন্ত্রণাদায়ক, কারণ এটি সংবেদনশীল চামড়ার নিচে হয় এবং সহজেই ফোলা ও প্রদাহ হতে পারে।
কারা হেমোরয়েড বা পাইলসের ঝুঁকিতে?
হেমোরয়েড সব বয়সেই হতে পারে, তবে কিছু নির্দিষ্ট কারণে এটি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়:
১. দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া
২. দীর্ঘ সময় টয়লেটে বসে থাকা
৩. অতিরিক্ত ভার উত্তোলন
৪. অল্প আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া
৫. কম পানি পান করা
৬. স্থূলতা
৭. গর্ভাবস্থা
৮. পরিবারে কারও পাইলস থাকার ইতিহাস
৯. কম শারীরিক পরিশ্রম করা
হেমোরয়েড জটিলতা
হেমোরয়েড একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা হলেও এটি যথাযথ সময়ে চিকিৎসা না করা হলে তৈরি করতে পারে নানা ধরণের জটিলতা। তীব্র অস্বস্তি, রক্তপাত ও সংক্রমণ ছাড়াও এটি জীবনযাত্রার মানকে অনেকটা নিচে নামিয়ে দিতে পারে।
হেমোরয়েডের সম্ভাব্য জটিলতা
১. থ্রম্বোসিস (রক্ত জমাট বাঁধা):
বাহ্যিক পাইলসে রক্ত জমে গিয়ে হঠাৎ ফুলে যেতে পারে, যাকে থ্রম্বোজড হেমোরয়েডস বলা হয়। এতে প্রবল ব্যথা, লালভাব ও ফোলাভাব দেখা দেয়। এতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
২. দীর্ঘমেয়াদী রক্তপাত:
প্রতিবার মলত্যাগের সময় টাটকা রক্তপাত হলে, তা ধীরে ধীরে রক্তাল্পতা (অ্যানিমিয়া) তৈরি করতে পারে। এর ফলে ক্লান্তি, দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।
৩. প্রল্যাপসড হেমোরয়েড:
অভ্যন্তরীণ হেমোরয়েড মলদ্বারের বাইরে চলে এলে তাকে প্রল্যাপস বলা হয়। যদি তা আর ভিতরে নেওয়া না যায়, তবে এটি ব্যথা, অস্বস্তি ও জ্বালাপোড়ার কারণ হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার দরকার হতে পারে।
৪. স্ট্র্যাংগুলেটেড হেমোরয়েড:
প্রল্যাপসড হেমোরয়েড যদি বাইরে আটকে যায় এবং রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তবে সেটি শ্বাসরোধ ঘটাতে পারে। এটি একটি জরুরি অবস্থা যা দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
৫. দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি:
অবিরাম চুলকানি, জ্বালাপোড়া ও ব্যথা মানসিক চাপ সৃষ্টি করে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে।
৬. সংক্রমণ:হেমোরয়েড আক্রান্ত স্থানে চুলকানি বা ঘষাঘষির কারণে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হতে পারে, যার ফলে ত্বকে লালভাব, গরম অনুভব এবং পুঁজ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
পাইলসের চিকিৎসা পদ্ধতি
পাইলসের চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের পর্যায় ও জটিলতার উপর। নিচে উল্লেখযোগ্য চিকিৎসা পদ্ধতির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হলো:
প্রাথমিক চিকিৎসা পদ্ধতি:
১. ওষুধ বা মলম ব্যবহার
২. সাপোজিটরি প্রয়োগ
৩. রাবার ব্যান্ড লাইগেশন
৪. ইনজেকশন থেরাপি (স্ক্লেরোথেরাপি)
উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি:
১. লংগো অপারেশন: লংগো অপারেশন হলো পাইলসের জন্য একটি আধুনিক ও উন্নত শল্যচিকিৎসা পদ্ধতি। এটি মূলত অভ্যন্তরীণ পাইলসের জন্য ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিতে বিশেষ একটি সার্জিকাল স্ট্যাপলার মেশিন ব্যবহার করে পাইলসের টিস্যু কেটে ফেলে ও রক্ত চলাচল বন্ধ করা হয়। লংগো অপারেশন তুলনামূলকভাবে কম ব্যথাযুক্ত, দ্রুত সুস্থতা নিশ্চিত করে এবং রোগীর হাসপাতালে থাকার সময়ও কম।

২. ব্যান্ড লাইগেশন: ব্যান্ড লাইগেশন হলো পাইলসের একটি কার্যকর ও জনপ্রিয় চিকিৎসা পদ্ধতি। এতে পাইলসের গোড়ায় একটি ছোট রাবার ব্যান্ড পরানো হয়, যা রক্ত সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। ফলে পাইলস শুকিয়ে যায় এবং ১-২ সপ্তাহের মধ্যে নিজে থেকে ঝরে পড়ে। ঘা শুকিয়ে যাওয়ার পর মলদ্বার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। চিকিৎসার পর কিছু ক্ষেত্রে হালকা রক্তপাত বা অস্বস্তি অনুভব হতে পারে। অধিকতর ফলের জন্য এই চিকিৎসা ২-৩ বার করতে হতে পারে।

৩. লেজার সার্জারি: লেজার সার্জারি হলো হেমোরয়েড চিকিৎসার একটি আধুনিক, সুনির্দিষ্ট ও কম ব্যথাযুক্ত পদ্ধতি। এতে লেজার রশ্মির মাধ্যমে পাইলস টিস্যু সরিয়ে ফেলা হয়, যার ফলে রক্তপাত কম হয় ও ক্ষত দ্রুত শুকিয়ে যায়। এই পদ্ধতিতে সংক্রমণের ঝুঁকি কম এবং রোগী দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন। তবে এটি তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল।
অন্যান্য পদ্ধতি:
১. ক্রায়োথেরাপি (Cryotherapy): এই পদ্ধতিতে হেমোরয়েড টিস্যুতে অত্যন্ত ঠান্ডা তরল নাইট্রোজেন বা কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রয়োগ করে টিস্যুটি জমিয়ে ফেলা হয়। জমাট টিস্যু কিছুদিনের মধ্যে শুকিয়ে পড়ে যায়। এটি একটি কম ব্যথাযুক্ত ও স্বল্প ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি।
২. ইনফ্রারেড থেরাপি (Infrared Coagulation Therapy): এই পদ্ধতিতে ইনফ্রারেড রশ্মির সাহায্যে অভ্যন্তরীণ হেমোরয়েডের রক্ত সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হেমোরয়েড শুকিয়ে যায় এবং পড়ে যায়।
৩. আল্ট্রয়েড সার্জারি (Ultrared or Doppler-Guided Hemorrhoidal Artery Ligation): এই পদ্ধতিতে ডপলার আল্ট্রাসাউন্ড প্রযুক্তি ব্যবহার করে হেমোরয়েডে রক্ত সরবরাহকারী ধমনী শনাক্ত করা হয় এবং তা বন্ধ করে দেওয়া হয় (ligation)। এতে হেমোরয়েড ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায়। এটি তুলনামূলক কম ব্যথাযুক্ত ও কার্যকর পদ্ধতি।
এই পদ্ধতিগুলো মূলত প্রাথমিক বা মাঝারি মাত্রার হেমোরয়েডে ব্যবহৃত হয় এবং অপারেশনের বিকল্প হিসেবে অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর প্রমাণিত হয়।
যেকোনো অস্ত্রোপচারের পরেও রোগ ফিরে আসার ঝুঁকি থেকে যায়, যদি না জীবনধারায় পরিবর্তন আনা হয়।
জীবনধারা পরিবর্তন
যারা প্রাথমিক পর্যায়ে আছেন অথবা অপারেশনের ঝুঁকি এড়াতে চান, তাদের জন্য নিচের পরামর্শগুলো অত্যন্ত কার্যকর:
১. প্রচুর পানি পান করুন (কমপক্ষে ২-৩ লিটার/দিন)
২. বেশি করে আঁশযুক্ত খাবার খান: শাকসবজি, ফল, গোটা শস্য
৩. টয়লেটে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকবেন না
৪. অতিরিক্ত গরুর মাংস, তেল-মশলা, ক্যাফেইন বর্জন করুন
৫. নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন
৬. ভারী জিনিস তোলা এড়িয়ে চলুন
৭. ডাক্তারের পরামর্শে হালকা মলম বা সাপোজিটরি ব্যবহার করুন
পাইলসের ঘরোয়া প্রতিকার
১. সিটজ বাথ: প্রতিদিন ১০–১৫ মিনিট গরম পানিতে পায়ুপথ ডুবিয়ে রাখা হলে প্রদাহ ও অস্বস্তি কমে যায়। এটি হেমোরয়েডের ব্যথা, চুলকানি এবং ফোলাভাব প্রশমনে সহায়ক।
২. বরফ বা ঠান্ডা সেঁক: পায়ুপথে বরফের টুকরো বা ঠান্ডা প্যাক প্রয়োগ করলে ফোলাভাব কমে এবং ব্যথা সাময়িকভাবে উপশম হয়। এটি বিশেষ করে বাহ্যিক পাইলসের ক্ষেত্রে কার্যকর।
৩. উইচ হ্যাজেল ও অ্যালোভেরা জেল: উইচ হ্যাজেল একটি প্রাকৃতিক অ্যাস্ট্রিনজেন্ট, যা চুলকানি ও প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। অ্যালোভেরা জেলের শীতল ও নিরাময় বৈশিষ্ট্য হেমোরয়েডের জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তি কমাতে কার্যকর।
এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো প্রাথমিক বা মৃদু পর্যায়ের হেমোরয়েডে উপশম দিতে পারে, তবে দীর্ঘস্থায়ী বা গুরুতর উপসর্গ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আরোও আর্টিকেল পড়ুনঃ ফার্মাবস
উপসংহার
পায়ুপথের সমস্যা যেমন হেমোরয়েডে, ফিসার বা ফিস্টুলা — এগুলো অনেকের কাছেই লজ্জাজনক একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়, ফলে সময়মতো চিকিৎসা না নিয়ে অবহেলা করা হয়। কিন্তু মনে রাখা জরুরি, পায়ুপথের প্রতিটি রোগই যদি প্রাথমিক অবস্থায় সঠিকভাবে চিহ্নিত ও চিকিৎসা করা যায়, তাহলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
কোষ্ঠকাঠিন্য এই সমস্যাগুলোর অন্যতম প্রধান কারণ, তাই খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, ও শারীরিক সচেতনতা এই রোগগুলো প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রশ্নোত্তর
কিভাবে বুঝবো হেমোরয়েডে হয়েছে?
পাইলস হয়েছে কিনা তা বোঝার কিছু সাধারণ উপসর্গ হল:
১. মলত্যাগের সময় রক্ত পড়া (বিশেষ করে উজ্জ্বল লাল রক্ত)
২. পায়ুপথে ব্যথা, চুলকানি বা জ্বালাপোড়া অনুভব হওয়া
৩. পায়ুপথে ফোলা বা ছোট মাংসপিণ্ড বের হয়ে আসা, যা কখনো মলত্যাগের পর ভিতরে ঢুকে যেতে পারে বা হাত দিয়ে ঠেলেও ঢুকানো লাগে
৪. মলত্যাগের সময় চাপ লাগা বা অসম্পূর্ণভাবে মলত্যাগের অনুভূতি
৫. দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া থাকলে পাইলসের সম্ভাবনা বেশি থাকে
হেমোরয়েডে হলে কোন কোন খাবার খাওয়া নিষেধ?
আপনার পাইলস হলে নিচের খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত:
১. মসলা ও ঝালযুক্ত খাবার (মসুর ডাল, মরিচ, ভাজা খাবার)
২. অতিরিক্ত চা/কফি এবং সফট ড্রিংকস
৩. রেড মিট ও চর্বিযুক্ত খাবার
৪. পরিমাণে কম ফাইবারযুক্ত খাবার (সাদা ভাত, সাদা পাউরুটি)
৫. দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য – কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়াতে পারে
৬. অ্যালকোহল ও ধূমপান – রক্তচাপ বাড়ায় ও অন্ত্রে পানি শোষণ কমায়
পাইলসের জন্য ঘরোয়া চিকিৎসা কী?
পাইলসের জন্য আপনি নিচের ঘরোয়া চিকিৎসা নিতে পারেনঃ
১. সিটজ বাথ: গরম পানিতে দিনে ১০-১৫ মিনিট পায়ুপথ ভিজিয়ে রাখুন
২. ঠান্ডা সেঁক (আইস প্যাক): ফোলা ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে
৩. অ্যালোভেরা জেল বা উইচ হ্যাজেল: প্রাকৃতিক উপায়ে প্রদাহ কমায়
৪. আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া: যেমন শাকসবজি, ফলমূল, ওটস, দানা শস্য
৫. প্রচুর পানি পান করা: দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস
৬. নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম
৭. টয়লেটে বেশি সময় বসে না থাকা
পাইলসের লক্ষণগুলো কী কী?
পাইলস হলে যেসব লক্ষণ প্রকাশ পায় তা হলঃ
১. মলত্যাগের সময় রক্তপাত (উজ্জ্বল লাল রক্ত)
২. পায়ুপথে চুলকানি, জ্বালা বা অস্বস্তি
৩. পায়ুর চারপাশে ফোলা বা গাঁটের মতো অনুভব
৪. মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগের প্রয়োজন
৫. মলত্যাগের পরও অসম্পূর্ণ অনুভব
৬. কখনো কখনো মলত্যাগের সময় বা পরে বাইরে মাংসপিণ্ড বের হয়ে আসা (প্রোল্যাপ্সড হেমোরয়েড)
হেমোরয়েড কি সাধারণ রোগ ?
হেমোরয়েড বা পাইলস একটি অত্যন্ত সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। বিশ্বের প্রায় ৫০% প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তাদের জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে হেমোরয়েডে আক্রান্ত হন। পুরুষ ও নারী উভয়ের মধ্যেই এই রোগটি সমানভাবে দেখা যায়, বিশেষ করে ৪৫ বছর বয়সের পর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
হেমোরয়েড সাধারনত কতদিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে?
হেমোরয়েড বা পাইলস কতদিন স্থায়ী হবে তা নির্ভর করে রোগের ধরন ও তীব্রতার উপর। হালকা পর্যায়ের পাইলস ঘরোয়া প্রতিকার এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বজায় রাখলে কয়েক দিনের মধ্যে সেরে যেতে পারে। তবে জটিল বা অবহেলিত অবস্থায়, এটি মাসের পর মাস স্থায়ী হতে পারে এবং চিকিৎসা ছাড়া আরাম পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
হেমোরয়েড কি নিজে নিজে পড়ে যায়?
হ্যাঁ, কিছু ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ হেমোরয়েড স্বাভাবিকভাবেই পড়ে যেতে পারে। এই প্রক্রিয়াটি “স্লাফিং” নামে পরিচিত, যেখানে হেমোরয়েড টিস্যু মৃত হয়ে গিয়ে শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায়। তবে, এই সময় রক্তপাত ও অস্বস্তি হতে পারে এবং এটি কখনো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।
Tag:Causes of piles in female, Causes of piles in male, Course, External hemorrhoids in females, External hemorrhoids treatment, Female hemorrhoids, Hemorrhoids, Hemorrhoids Cream, Is piles dangerous, Piles, Piles cure in 3 days, Piles treatment, Symptoms of piles in female Piles medicine, What causes hemorrhoids, which type of piles is dangerous, পাইলস, পাইলস এর চিকিৎসা ঔষধের নাম, পাইলস এর প্রাথমিক লক্ষণ, পাইলস এর মলম নাম, পাইলস এর লক্ষণ, পাইলস এর লক্ষণ ও প্রতিকার, পাইলস কেন হয়, পাইলস থেকে ক্যান্সার এর লক্ষণ, বাহ্যিক পাইলস এর লক্ষণ, হেমরয়েড, হেমোরয়েড বা পাইলস
